Wednesday 1 April 2020
Home      All news      Contact us      English
jagonews24 - 6 days ago

করোনায় ডাক্তার-নার্সদের সুরক্ষার প্রশ্ন

করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশের অন্যান্য রোগীদের ভাগ্যেও এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। খবরে দেখলাম, কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস আতঙ্কে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এমনকি রাজধানীর অত্যাধুনিক হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকরা জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ডাক্তার-নার্সসহ সেবাকর্মীরা রোগীর কাছে আসছেন না, কথা বলছেন না। অনেক হাসপাতালে পিপিই (পার্সনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট) না থাকায় ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যসেবা স্টাফরাও জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি রোগীদের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগীদের সরকারি হাসপাতালে যেতে বলছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ব্যতীত আরও তিনটি হাসপাতালে বর্তমানে করোনা চিকিৎসার সুবিধা আছে বলা হচ্ছে। অন্যান্য সরকারি হাসপাতালেও এই ভাইরাসের উপসর্গসহ রোগীদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে দাবি করা হচ্ছে। তাহলে রোগীরা কেন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে! এটাতো স্পষ্ট যে করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শুরু থেকে কোনো সমন্বিত উদ্যোগ নেই। সরকার কোন চারটি হাসপাতালকে নির্দিষ্ট করেছে করোনা রোগীদের জন্য- তারও কোনো জোরালো প্রচার নেই কেন! সরকারের কর্তাব্যক্তিরা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্তারা কি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মিরপুরে মারা যাওয়া একজন রোগীর সন্তানের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেখেছেন। একটির পর একটি করে চিকিৎসার জন্য পাঁচটি হাসপাতাল ঘুরেছে তারা অসুস্থ বাবাকে নিয়ে। এমনকি আইইডিসিআর-ও এই রোগীর চিকিৎসা নিয়ে তালবাহানা করেছে। এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ পর্যন্ত স্থান পেলেও শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ায় রোগীর কাছে যায়নি ডাক্তাররা! তার বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী কে? বাংলাদেশের সিংহভাগ রোগী চিকিৎসাসেবা নেয় বেসরকারি হাসপাতাল থেকে। বেসরকারি হাসপাতালগুলো কেন করোনা রোগীর চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রে তালবাহানা করবে, চিকিৎসা দিতে আপত্তি জানাবে! স্বাস্থ্যসেবা খাতে মাফিয়া হয়ে ওঠা বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মালিকদের জবাবদিহিতা কে নিশ্চিত করবে? নামকরা বেসরকারি হাসপাতালগুলো তাদের কাছে পিপিই বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই বলে রোগীদের ফেরত পাঠানোর অধিকার কী করে পায়! না থাকলে সংগ্রহ করবে, যেমন করে রোগীর কাছ থেকে ১৪ রকম সেবা দেয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নেয়, এখানে সেই সরঞ্জামের জন্য দরকার হলে রোগীর কাছ থেকে টাকা নেবে। ঢাকা শহরেই ভালো মানের পিপিই পাওয়া যায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায়। অতি উন্নতমানের পিপিই ১০ হাজার টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশে যখন একবার ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা দেখা দিয়েছিল ভেটেরিনারি ডাক্তাররা সেটা অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই এসব দিয়েই সামাল দিয়েছেন। পিপিই বাজারে নেই বলে অপপ্রচার আর অজুহাত তো তখন শোনা যায়নি। হতে পারে এখন চাহিদা বেশি কিন্তু প্রচারটা এমন হচ্ছে যেন পিপিই শুধু এখন দরকার হচ্ছে। আগে দরকার ছিল না। এটাতো ডাক্তার-নার্স, হাসপাতালের একটি নিত্য বিষয়। বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা সব ধরনের রোগীর চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত থাকার কথা। কারণ সেবাই তাদের পেশা। বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কাজের পরিবেশ নিশ্চিতে সেসব হাসপাতালের মালিকচক্র নজর দিচ্ছেন না- তা দেখার দায়িত্ব কার? আর নিশ্চিত যদি করা হয় তবে বেসরকারি হাসপাতাল কোন অজুহাতে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের ভর্তি করবে না? ডাক্তাররা কেন সেবা দেবেন না? এটাও মনে রাখা দরকার, চিকিৎসাসেবায় যারা আত্মনিয়োগ করবেন তারাও মানুষ। সুতরাং তাদের করোনাভাইরাসমুক্ত রাখতে হবে সবার আগে। বলা হচ্ছে, সরকারি হাসপাতালেও ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় পোশাক সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই। সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের সরঞ্জাম করোনার সময় কেন, সারা বছরইতো থাকার কথা। হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপকদের এই ব্যর্থতার দায় কে নেবে? মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেবে? এই সরঞ্জাম কিনতে সরকারি হাসপাতালগুলোর কি নিজস্ব নানা আয়ের পথগুলো রুদ্ধ হয়ে গেছে? নাকি সেটি আমজনতা জানে না বলে একেবারেই অজানা কাহিনী? খবর বেরিয়েছে, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক নোটিশ দিয়ে কর্মরত সবাইকে ‘নিজ উদ্যোগে’ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও মাস্ক সংগ্রহ করে ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছেন। বলেছেন, সম্পদের স্বল্পতার জন্য হাসপাতাল থেকে সবাইকে তা সরবরাহ করা যাচ্ছে না। অনেকে এটাতে আবেগে ভেসে যাচ্ছেন যে, যেই দেশে হাসপাতালের বালিশ আর পর্দা কেনার জন্য লাখ টাকা খরচ হয়, দুই কোটি ৮০ লাখ টাকার এমআরআই মেশিন সাড়ে ৯ কোটি টাকা দিয়ে কেনা হয়- সেখানে ডাক্তারদের জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম কেনার টাকা হয় না। ডাক্তারদের জীবনের কি কোনো মূল্য নেই! আগেই বলেছি, নরমাল সময়েও যা একটি হাসপাতালের ভাণ্ডারে থাকার কথা সেটি কেন মিটফোর্ড হাসপাতালে নেই- এখন বরং সেই খবর নেয়া দরকার। হাসপাতালের বাকি রোগীরা কীভাবে নানা ভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগীর থেকে নিরাপদ থাকবে তাহলে? ডাক্তার-নার্সরাইতো সেটা ছড়িয়ে দিচ্ছেন পুরো হাসপাতালে। কোভিড-১৯ কি শুধু একমাত্র ভাইরাস! এই পরিচালক মহোদয় একটি হাস্যকর নোটিশ দিয়ে তার ব্যবস্থাপনার ত্রুটি এবং অযোগ্যতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। মেনে নিলাম তার ভাষায় ‘সম্পদের স্বল্পতার জন্য’ বা অন্য কোনো কারণে তার এসব নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও মাস্ক নেই। এই সময় আরও কয়েকগুণ বেশি দরকার হচ্ছে এসব সামগ্রী। তিনি যদি বাংলাদেশের দুটি বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিকে বলতেন, তারাতো কার আগে কে দেবে প্রতিযোগিতায় নামতো। বাংলাদেশের বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসতো। এটিতো কোটি টাকার জিনিস না, ঘুষও না- সবাই জনস্বার্থে সহযোগিতা করতো। না চাইলে হাসপাতালের প্রয়োজন সরকার বা বেসরকারি লোক জানবে কী করে! আমিতো আশা করেছি, সরকারি হাসপাতালগুলো এই সময়ে শুধু সরঞ্জাম নয় বাড়তি ডাক্তার-নার্সও চাইবে সরকারের কাছে। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট, ইরাক ও আফগান যুদ্ধ-সংবাদ সংগ্রহের জন্য খ্যাত।anisalamgir@gmail.com এইচআর/বিএ/জেআইএম


Latest News
Hashtags:   

করোনায়

 | 

ডাক্তার

 | 

নার্সদের

 | 

সুরক্ষার

 | 

প্রশ্ন

 | 
Most Popular (6 hours)

Most Popular (24 hours)

Most Popular (a week)

Sources