Wednesday 19 February 2020
Home      All news      Contact us      English
jagonews24 - 29 days ago

শীতে চরম ভোগান্তিতে চরাঞ্চলের মানুষ

দেশের উত্তরের সীমান্ত ঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রাম। হিমালয়ের কাছাকাছি দেশের উত্তরের এই জেলায় তুলনামূলকভাবে প্রতি বছরই শীতের প্রকোপ থাকে বেশি। বৃহত্তম ১৬টি নদ-নদীময় এই জেলাতে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বসবাস। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, দুধকুমারসহ ৩১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নদী পথে ৫২০টি চর-দ্বীপচর রয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বসবাস করছে। প্রতি বছরই শীতসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত হয় চরাঞ্চলবাসী। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি শীতে। সংসারের বাড়তি আয়ের জন্য গবাদিপশু পালন করলেও সেগুলো ঠান্ডার কারণে মারা যাচ্ছে। বছরের অধিকাংশ সময় এই এলাকায় মানুষের হাতে তেমন কাজকর্ম থাকে না। শীতের সময় কম মজুরিতে শ্রম দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর সেখানে শীতবস্ত্র কেনা যেন অনেকটাই স্বপ্ন তাদের কাছে। তাই ঠান্ডাতে অনেকেই পুরাতন কাপড় ব্যবহার করছেন। সন্ধ্যা নামার পরপরই চরাঞ্চলের মানুষ রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ছেন। আবার খুব ভোরে উঠেই বেরিয়ে পড়ছেন কাজের সন্ধানে। নারী, শিশু এবং বৃদ্ধরা একটু উষ্ণতা পেতে রোদের খোঁজে বের হন। রোদের দেখা না পেলে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করেন। এদিকে শীতে সরকারি-বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছেন চরের বাসিন্দারা। প্রতি বছরই বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই শীতের হানায় চরম দুর্ভোগে পড়েন তারা। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা না থাকায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হলে তাদের ভরসা স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তার। চর যাত্রাপুরের বাসিন্দা মজিবর রহমান, আক্কাছ আলী, বুলবুলি বেগম ও মরিয়ম বেগম জানান, শীতের সময় চরের মানুষের দুর্ভোগ হয় বেশি। ধু-ধু বালুচর, চারপাশে গাছগাছালিও নেই। নদী ভাঙনের কারণে ভাঙা ঘরবাড়িতে হু হু করে হিম বাতাস ঢোকে। কোনো রকমে কাঁথ-কাপড় মুড়িয়ে শীত পার করতে হচ্ছে। এছাড়াও খুব শীত পড়লে খড়কুটো জ্বালিয়ে তাপ নিতে হয়। চিলমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের জোরগাছ এলাকার আকবর আলী, সাহেব মিয়া, হাসমত আলী,আজিরন বেওয়া, লুনা বেগমসহ অনেকেই জানান, চরের মানুষজন গরমকালে হাট-বাজার থেকে দেরি করে ফিরলেও এখন শীতের কারণে উল্টো হয়েছে। অন্ধকার নামার আগেই বাজার করে আনতে হচ্ছে। এরপর তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ছে সবাই। বেলা উঠলেই কাজে যোগ দিচ্ছে। শীতের কারণে চরের মধ্যে শিশু ও বয়স্করা বেশি কষ্টে রয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম রিপন বলেন, শহরের তুলনায় চরাঞ্চলে শীতে মানুষের দুর্ভোগ বেশি হয়। সরকারি বা বেসরকারিভাবে যেসব শীতবস্ত্র আসে সেগুলো দিয়ে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়। তাই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে স্বল্প মূল্যে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিক্রি করার সুযোগ তৈরি করলেও চরাঞ্চলবাসীসহ নিম্ন আয়ের মানুষের উপকার হবে। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ পর্যন্ত ৬৩ হাজার শীতবস্ত্র এবং ১৫০০ শিশুর পোশাক এছাড়াও দুই হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন, সরকারের নিদের্শনা অনুযায়ী শীতে কোনো মানুষ যাতে দুর্ভোগে না পড়ে সে মোতাবেক আমরা কাজ করছি। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় করে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে নাজমুল হোসাইন/আরএআর/জেআইএম


Latest News
Hashtags:   

ভোগান্তিতে

 | 

চরাঞ্চলের

 | 

মানুষ

 | 
Most Popular (6 hours)

Most Popular (24 hours)

Most Popular (a week)

Sources